লাইফ-স্টাইল

করোনায় উদ্ভট চিন্তা আর বিশ্লেষণ!

এমএসকে নিউজ ডেস্ক :: মো. তাজবিদ রশিদ : করোনাভাইরাস মারাত্মক একটি রোগ। এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে কত না কায়দা মেনে চলছে আজকে সবাই। একদল গবেষকসহ করোনা আক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়া এমন রোগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেবুতে প্রচার করছেন বিভিন্ন অভিজ্ঞাত। গরম পানির গল গলা করলে করোনা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। আবার উদ্ভট কিছু ব্যক্তি মনে করে মাথার চুল করোনা চড়াই। তাই মাথা ন্যাড়া করার হিড়িকে মেতে উঠেছে ওইসব উদ্ভট মানুষ গুলো। মাথা ন্যাড়া করা নিউটন বলেন, শুনেছি চুল থেকে করোনা চড়াই। এরজন্য মাথা ন্যাড়া করলাম। প্রকট গরমের মধ্যে গরম পানি পান করা ব্যক্তি, নিগার সোলতানা বলেন, আমরা ফেস বুকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওয়ালে দেখেছি গরম পানি পান করার কথা। তারা উল্লেখ করেন, করোনাভাইরাস জীবাণু নাকি প্রথমে মুখমণ্ডলের একদম ভিতরে গলার মধ্যে ২/৩ দিন অবস্থান করে। গরম পানি পানে পাকস্থালীর ভিতরে চলে যায়। তখন জীবাণু মারা যায়। সুতারাং করোনা আর হতে পারেনা। বৃদ্ধ ফাতেমা বেগম সারাজীবন গরম পানি পান করেন। তবে তিনি আরো শুনেছেন, আদা রসুন কালো জিরাসহ বিভিন্ন প্রকার দিয়ে রং চা পানে করোনা হয়না। তাই তিনি বিভিন্নদির চা খেতে পছন্দ করেন। তবে সকলের একটি প্রার্থনা,করোনা মুক্ত থাকার জন্য মঙ্গলগ্রহে অবস্থান করতে হলে তাও চেষ্টা করত সবাই। মাথা ন্যাড়া দিয়ে করোনার কোন কাজে না আসুক বা আসুক তাতে কি সমস্যা? অন্ততপক্ষে গরমে স্বস্তি পাওয়া যায়। গরমের মধ্যে ঠাণ্ডা পানীয় পানে গলা ব্যথা হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সবকাজে নেতির চাইতে ইতিবাচক বেশি রয়েছে।
করোনাভাইরাস যেখান থেকে সৃষ্টি তারা আজ উন্মুক্ত জীবনযাপন করছেন। স্বাভাবিক জীবনে যাত্রা শুরু করে দিয়েছে তারা। তবে তাদের কেউ এই পর্যন্ত এইসব বক্তব্য দেন নাই। করোনাভাইরাস মারাত্মক ছোঁয়াচে। তাই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা বাধ্যবাধকতা। যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তাদের নির্দিষ্ট স্থানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া। তাদের চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে পিপিই পরিধান বাধ্যবাধকতা। যারা রোগীর সংস্পর্শে থাকবেনা তাদের পিপিই বা মাস্ক পর্যন্ত ব্যবহারে প্রয়োজন নেই। তবে কিছু ভীতু এবং জ্ঞান পাপী নিজেদের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তা করোনা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে দিকবেদিক ছুঁটাছঁটি করে। এতে অন্যদের মাঝেও করোনা ছড়াতে পারে বলে মাক্স ও হ্যান্ড গ্লাবস ব্যবহার করতে হচ্ছে অন্যদের। করোনা থেকে মুক্তি লাভ করা একধিক রোগী তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, স্বাভাবিক চিকিৎসায় মুক্তি লাভ করেছেন তারা। তবে করোনাভাইরাস নামক রোগের শুরুতে একদল চিকিৎসক ও গবেষক বলছে করোনাভাইরাস সরাসরি ফুসফুসে অবস্থান করার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস বেড়ে যায়। তাপমাত্রা শেষের দিকে অতিরিক্ত থাকে। এতে রোগীকে বাঁচানো কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে। আসলে এই পর্যন্ত করোনাভাইরাস রোগ সৃষ্টির কারণ ও মুক্তি সম্পর্কে একমাত্র চীন ব্যতীত আর কারো জানা সম্ভব বলে মনে হচ্ছেনা। প্রথম প্রথম বলা হত একজনের মাধ্যমে অন্যজনোর কাছে এই রোগ ছড়াই। তবে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে থাকা বাংলাদেশি চিকিৎসক বলছেন, করোনাভাইরাস তার ধরন পরিবর্তন করছেন, শুরুতে করোনা জীবাণু নিচে পড়ে থাকত। এখন বাষ্পীয় বলের মত নিচে পড়ে বাতাসে বাসতে আরম্ভ করছে। এতসব কথা শুনে মানুষ কি করবে তা নিশ্চিত হতে পারছেনা। যেসব দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে দৈনিক শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। একটি সময়ের পর তা কমে আসতে দেখা যায়। তবে কি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করে নির্দিষ্ট মানুষের প্রাণহানি করে চলে যাবে? অপরদিকে করোনার ব্যাপারে বলা হচ্ছে, বৃদ্ধ ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মারাত্মক। তারা মৃত্যুর ঝুঁকিতে বেশি। তবে শতবছর, আশি বছরসহ অনেক বৃদ্ধ করোনা থেকে মুক্তি লাভ করেছে। আবার কমবয়সীরা মৃত্যু ঝুঁকি কম। তাও ভুল প্রমাণিত করে অহরহ কমবয়সী মৃত্যু বরন করেছে। চীনের করোনাভাইরাসের দিকে একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সর্বচ্চ ৩/৪ মাস অবস্থান করেছিল। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইন যারা মেনে চলেছিল এবং সহজে করোনা রোগীর স্পর্শে যায়নি তারা বেঁচে গেছে করোনা থেকে।
দেশের বাইরে একাধিক গণমাধ্যম বলছে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসে। নিজেদের অর্থনৈতিক দখল ও শক্তির প্রভাব এবং বৈজ্ঞানিক অবস্থান শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কম না এই করোনাভাইরাস রোগ। আজ করোনা আক্রান্ত উন্নত দেশ গুলো সন্দেহ, চীন ইচ্ছে করে পারমাণবিক বায়বীয় গ্যাস কিঞ্চিৎ পরিমাণ ছড়িয়ে দিয়ে টেস্টিং করল কি পরিমাণ প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে করোনার প্রভাবে বিভিন্ন দেশের ব্যবসা বাণিজ্য দখল নেওয়া। নিজেদের বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু চড়া দামে সাপ্লাই দেওয়া ইত্যাদির ব্যাপারে কথা হচ্ছে। এতসব প্রশ্ন সৃষ্টির কারন হচ্ছে চীনের উওহান প্রদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল করোনাভাইরাস। যেখানে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল। সেখানে চীনের অন্যকোন প্রদেশে না ছড়ানো আজ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আবার আরেকদল গবেষক বলছে, চীন ইচ্ছে করে করোনাভাইরাস ছড়ালে, অনুন্নত,উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে কেন করোনাভাইরাস ছড়াবে? একধিক প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বের মধ্যে। তবে যতসব গবেষণায় এটাই প্রমাণ ৩/৪ মাস অবস্থান করবে করোনাভাইরাস। তবে এইসময় কতজনের প্রাণহানি করে তা সৃষ্টি কর্তা ভাল বলতে পারে।

Show More

MSKnews24.com desk

জনপদে জনগণের কণ্ঠস্বর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close